ফাল্গুনে আগুন লেগেছে তাই তো প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে হলুদ ও সবুজ রঙের আমের মুকুল। পল্লিকবি জসীম উদ্দিন এর ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পংক্তি গুলো বাস্তবে রূপ পেতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সকালের দিকে কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর থেকে অধ্যক্ষের বাস ভবনের রাস্তার পাশে, বিএনসিসি ভবনের পশ্চিমে, ইংরেজি বিভাগের সামনে, ছাত্রাবাসের বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ভবন ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ভবনের সামনের এলাকাসহ ক্যাম্পাসের সব আমগাছে ফুটছে মুকুল।
থোকা থোকা মুকুলের ভারিতে হেলে পড়া গাছে যেন মেলা বসেছে মৌমাছির। মুকুলের মৌ মৌ সুগন্ধ, মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর কোকিলের মিষ্টি কন্ঠের কুহু কুহু ডাকে বিমোহিত সকলেই। রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন সাজে আর তাই শুধু শিক্ষক- শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী নয় মুগ্ধ হচ্ছেন ক্যাম্পাস আগত দর্শনার্থীরাও ।
অর্থনীতি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নায়েব আলী বলেন, আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসে রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করছি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি আমার সেই গ্ৰামেই আছি। চারিদিকে আমের মুকুলের সুঘ্রাণ। মৌমাছির গুনগুন শব্দ আমার মনকে নিজ গ্ৰামে থাকার অনভূতি যোগাচ্ছে। আমি রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ।
রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোসাঃ রুকাইয়া আক্তার বলেন, রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে আসলেই মন খুশি হয়ে যায়। তার উপরে আমের মুকুলের সুঘ্রাণ কি যে ভালো লাগে বলার ভাষা নেই। বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে দলীয় পাঠদানের জন্য আমার আগ্ৰহ অনেক বেশী হয়েছে শুধুমাত্র এই ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় সজ্জীত আমের মুকুলের জন্য।
রাজশাহী কলেজের মালি আনোয়ার হোসেন বলেন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের পরামর্শে গাছগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আশা করছেন বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের ফলন ভালো হবে। গাছে গুটি আসার আগে থেকেই গাছগুলোর পরিচর্যা এবং পরামর্শ অনুযায়ী মুকুল আসার পর থেকে বিভিন্ন রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা শুরু করে দিয়েছি।
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, কলেজে প্রবেশ করতেই মন শীতল হয়ে যায়, বসন্তের আগমনে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আম গাছের মুকুলের সুঘ্রাণ। এই সুঘ্রাণে মন সতেজ হয়ে যায়, এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে মনে। রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস বনায়নের থেকে খুব একটা ভিন্ন নয় আর বসন্ত আসলে আমের মুকুলের সুঘ্রাণে আমি তা আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি।
রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা:আব্দুল খালেক বলেন, কলেজ প্রশাসন যতগুলো আম গাছ রয়েছে সব গুলোর দিকে নজর রাখছে। গাছগুলোর মুকুল যেন ঝড়ে না যায় সে বিষয়েও খেয়াল রাখা হচ্ছে । বিশেষ করে কাল বৈশাখী ঝড়ে বেশিরভাগ আমের মুকুল ঝড়ে যায়। সেটি যেন না হয় এ জন্য যে যে বেবস্থা গ্রহণ করা দরকার সে সবগুলোই করা হয়েছে। আশা করা যায় এইবার কলেজের গাছগুলো থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে ।
