নতুন বছর নিয়ে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ফিচার

দিন আসে, দিন যায়, তেমনি বছরও। রাত-দিনের পরিবর্তনে বিদায় নিয়েছে আরেকটি বছর। বিদায়ী বছরের হতাশা ও বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরের আগমন এক নতুন আশার সঞ্চার করে। ক্যালেন্ডারের নতুন পাতাটি উল্টে উচ্চারিত হয় ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন দিনের সূচনা, নতুন পথে চলার সংকল্প। নতুন প্রাণের জাগরণ, নতুন শপথ—বছরের প্রথম দিনে সবকিছু যেন একাকার হয়ে ওঠে। অতীতকে পেছনে ফেলে, নতুন সম্ভাবনা নিয়ে নতুন বছর আসে। সময়ের সাথে মানুষের চিন্তা ও পরিকল্পনাও বদলে যায়, পথচলা হয় আরও দৃঢ়। নতুন বছরের এই ভাবনা নিয়ে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন, তা জানাচ্ছেন এস আলী দুর্জয়

নতুন বছরের অঙ্গীকার: এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

ক্যালেন্ডার এর পাতায় নতুন একটা বছর ২০২৫। নতুন দিনের নতুন সূর্য, নব উদ্যমে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হোক নতুন বছর। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। ২০২৪ এর অপ্রাপ্তি গুলো পূর্ণতায় ভরে উঠুক ২০২৫ এ। নিঃসন্দেহে ২০২৫ আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বছর হতে যাচ্ছে। গতবছর যেমন আমরা ২৪ এর দ্বিতীয় যুদ্ধে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে সমস্ত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। যার প্রমাণ আমরা ইতিমধ্যেই পেয়েছি,, পুরো জাতি যখন এক হয়ে যাই তখন তাদেরকে দমানোর সাধ্য আর কারো নেই। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজন। যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি সেই আদোলো দেশকে গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। যেখানে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এভাবে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে না দেখে একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে তার নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করবে। বাংলাদেশ কে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই। যার প্রধান শক্তি হলো এদেশের তরুণ প্রজন্ম।‌ শিক্ষা জীবন শেষ করে এখনো বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীরা বেকার হয়ে জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় তরুণ দের সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। সকল পেশার মানুষের পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। ২০২৫ সফলতায় ভরে উঠুক। বাংলাদেশ কে আমরা একটি আদর্শ সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবাই চেষ্টা করছি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগবে। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সকল দিক দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পাক। এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এই হোক নতুন বছরের প্রত্যয়।

মোঃ আসিফ হোসেন, সম্মান প্রথম বর্ষ, রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগ।

নতুন বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনা ও সংকটের পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন সরকারের আগমনে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপান্তর প্রকল্প ও “রূপকল্প ২০৪১” পরিকল্পনার মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হলেও, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় এদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশের অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট-নির্ভর শিক্ষা চালু হলেও গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার ডিভাইস ও সংযোগ সংকট শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার ১৭% ছাড়িয়ে যাওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র ২.০৮%, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড়ের তুলনায় কম। নতুন সরকারের সঠিক পদক্ষেপ না থাকলে বাজেট সংকোচন অবকাঠামো উন্নয়ন ও চলমান প্রকল্পগুলোর স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তবুও সম্ভাবনার দিক উজ্জ্বল। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার নতুন সরকারের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ হতে পারে। তবে এসব বাস্তবায়নে শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে পরিকল্পনা কার্যকর করতে হবে। নতুন বছরে শিক্ষার উন্নয়ন শুধু সরকারের নয়, পুরো জাতির দায়িত্ব। প্রযুক্তি, সঠিক পরিকল্পনা, এবং সবার অংশগ্রহণে একটি স্থিতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। শিক্ষার উন্নয়নই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

রোকেয়া সুলতানা, সম্মান প্রথম বর্ষ,ইতিহাস বিভাগ।

নতুন বছরের নতুন ভাবনা

নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন। পুরোনোকে ছিন্ন করে নতুনের আবির্ভাব। একটি বছর শেষ করেই আসে নতুন বছর। সেভাবে নতুন বছরে দুঃখ কষ্ট শেষ করে আসুক সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের দিন। নতুন বছর মানেই মনের কামনা এই যে আগামী দিনগুলো হোক সুখময় , সৌন্দর্যময়, শান্তিপূর্ণ ও অনাবিল আনন্দের দিন। বিগত বছরের দিন গুলো হতে পারে অসন্তোষজনক, প্রত্যাশার বিপরীত অথবা সমস্যা জর্জরিত বেদনার দিন।তাই বলে থেমে যাওয়া যাবে না,হতাশ হওয়া যাবে না।নতুন বছরের দিন গুলো যেন বিগত বছরের তুলনায় সুখময় হয় সেই চেষ্টা করতে হবে। নতুন বছরের প্রথম দিনের সকালের সূর্য টা নতুন না হলেও দিনের শুরুটা হয় নতুন ভাবেই।তাই বিগত বছরের গ্লানি ভুলে যেতে হবে নতুন উদ্যোগে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন বছরে নিজেকে নতুন ভাবে সাজাতে হবে।তার জন্য প্রয়োজন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ মানসিকতা। নতুন বছরে নতুন ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে,বিগত বছরে সুখ ভোগ করেছি নাকি দুঃখ পেয়েছি সেটা ভেবে হতাশ হলে জীবন স্থীর হয়ে থাকবে। একজন ছাত্রী হিসেবে নিজেকে এমন ভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন আমার দ্বারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অপকার বা ক্ষতি না হয় বরং আমার দারা যেন প্রতিষ্ঠানের মান উজ্জ্বল হয়। বিষন্নতার গ্লানি সবার জীবন থেকে মুছে যাক নতুন বছরে। মনে প্রাণে দোয়া করি নতুন বছর সবার জন্য সুখময় হোক।বিগত ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন।যে আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছে মেধাবী বহু ছাত্র-ছাত্রী। শুধু ছাত্র-ছাত্রী নয় শিশু ও সাধারণ বহু মানুষ ও প্রাণ হারিয়েছে।এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন এদেশে আর না ঘটে সেজন্য নতুন বছরের শুরু থেকেই নিজ অবস্থান থেকে সকলের সচেষ্ট হতে হবে।ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ শুরু হোক নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই। শান্তিময় দেশ গঠনে সহায়ক হতে হবে নতুন ভাবে ।সর্বোপরি চাই নতুন বছর সকলের জন্য কল্যাণকর হোক, সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ হোক।

মোসাঃ তামিম তুলি, সম্মান দ্বিতীয় বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ।

নতুন আলোয় নতুন আশা

শীতকালের মিষ্টি ঠান্ডা, পিঠার ঘ্রাণ আর রাসের উৎসবের রঙিন আমেজে শুরু হয় নতুন বছর। শিশির ভেজা ঘাসের ওপর রোদ্দুরের ঝলক, শীতের মৃদু বাতাস আর পাখিদের কিচিরমিচির যেন নতুন স্বপ্নের গান শোনায়। বছরের প্রথম সূর্যোদয় থেকে রাতের কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ পর্যন্ত প্রকৃতি এক নতুন সাজে সেজে ওঠে। নতুন বছর উদযাপন নিয়ে মানুষের আয়োজন থাকে বৈচিত্র্যময়। কেউ প্রার্থনা আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সময় কাটায়, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পিকনিক, নাচ-গান বা আড্ডায় মেতে ওঠে। এই সময়টায় মানুষ নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেয়। কারও স্বপ্ন থাকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে নতুন কিছু অর্জনের, কেউ আবার ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালায়। প্রকৃতির প্রতিটি ছন্দও যেন নতুন বার্তা দেয়। কুয়াশায় মোড়া ভোরের আলো, গাছে জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর ঠান্ডা বাতাস মানুষের মনে নতুন উদ্দীপনা আনে। এই শীতল রূপ আর উষ্ণ রোদ্দুরের মিশেলে এক অন্যরকম আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। নতুন বছরের শুরু মানেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। পুরনো হতাশা ভুলে, নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়। মানুষের হৃদয়ে থাকে একটাই প্রত্যাশা—নতুন আলোয়, নতুন উদ্যমে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সুন্দর করে তোলা।

হালিমা আক্তার হানি, সম্মান প্রথম বর্ষ, দর্শন বিভাগ ।

সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *